Bengali, Life experience, Memory, Nostalgia

জলপাইগুড়ির দিনরাত্রি

সেই কবে তারাপদ রায়ের লেখায় পড়েছিলাম এক জবরদস্ত অযোধ্যা সিং-এর রাম খাওয়ার গল্প, যার শেষের লাইনটা ছিল সেই অযোধ্যা আর নেই, আর সেই রামও আর নেই। নাঃ এটা পলিটিক্যাল লেখা নয়, রাম নিয়ে রসিকতা করার ধ্যাষ্টামো আমার নেই। সে রাম খালি হনুমানদের, আমি যে রামের কথা বলছি সেটা একান্তই এই হনুর। মাল গাঁজা সহযোগে বেলেল্লাপনার চরম উদাহরণ রেখে গেছেন সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় কলকাতার দিনরাত্রিতে। হঠাৎ করে সে বইয়ের কথা মনে পরে মনটা চলে গেলো ১৮-১৯য়ে, হ্যাঁ সে ছিল একটা সময় বটে। জলুতে তখন ফার্স্ট ইয়ার। সব পোনাদের উপদেশ মেনে লেখাপড়া ডকে, আরে বাপু ক্যাম্পাসিং এমনিও হয়না, ওমনিও হয়না, পড়ে আর কি ছিঁড়বি। কাজেই চালাও দেদার বিড়ি সিগ্রেট বাংলু। জলুর কথা মনে পড়ায় ভাবলাম, সুনীল সমরেশ সন্দীপনের কলকাতার দিনরাত্রির চেয়ে আমাদের জলুর দিনরাত্রিগুলো কম রঙিন ছিলোনা। রামের কথাই যখন উঠল তাহলে রাম দিয়েই শুরু করি। ফোর্থ ইয়ারের নামকরা মাতাল পোদুদা একদিন রাতে আমাদের হোস্টেল এ এসে আমাদের দুজনকে নাম ধরে খোঁজা শুরু করলো, কিবে তোর নাম হনু? হ্যাঁ দাদা। আর তুই খেঁচু। হ্যাঁ। শুনেছি তোরা নাকি হেভি মাল খাস? এই দেখ এক বোতল রাম, চল রুমে চল। আর বোতল মানে পাঁইট ফাঁইট নয়, পুরো খাম্বা। তবে আদ্ধেক আগেই সাঁটিয়ে এসেছিলো মহাপুরুষ। আহা সেই যে হল অফ ফেমে নাম ওঠার অনুভূতি হয়েছিল, জীবনে আর কখনো সেরম কৃতার্থ বোধ করিনি। পুরো চার বছরের ফিরিস্তি দিতে গেলে দিস্তা দিস্তা কাগজ উজাড় হয়ে যাবে, সেসব থেকে বেছে বেছে দুটো ঘটনাই শেয়ার করলাম। তখনকার বন্ধুবান্ধব সব এখন দায়িত্বশীল চল্লিশ ছুঁইছুঁই ধেড়ে মানুষ, কাজেই তাদের আর বিব্রত করলাম না আসল নামধাম বলে, পড়ে যাদের যাদের বোঝার কথা তারা ঠিকই বুঝে যাবে, আর বাকিদের বলি আসল নাম দিয়ে কি ঘন্টা হবে হ্যাঁ?

দিন

সেটা ৯৭ সালের মে মাসের কথা। ফার্স্ট ইয়ার। আমাদের অ্যানুয়াল পরীক্ষার সময়। পরীক্ষার ২ সপ্তা আগে অন্ডকোষ টাকে উঠে গেছে, তখন প্রমাদ গণছি কেন সারাটা বছর না ঘষে কাটিয়েছি, এবার হয়ত খেলাম ইয়ার ল্যাগ। এমন সময় টাউনে ব্যাপক বাওয়াল হয়ে কলেজ বন্ধ। সে যেন হাতে চাঁদ পেলাম। এবার কি করা? বাড়ি যাবার বেশ ১০-১২ দিন দেরি আছে কিন্তু কলেজে কিচ্ছু করার নেই আর টাউনে যাওয়া বন্ধ ফের বাওয়ালির ভয়ে। এমন সময় একদিন সকল ৯টায় সবে দাঁত মাজছি এমন সময় হোস্টেলের করিডোরে দেখতে পেয়ে রামুদা হাঁক মারলো, হনু মদ খাবি চল। ভাবলাম খোরাক দিচ্ছে, উত্তর দিলাম দাঁড়াও ৫ মিনিটে আসছি। ৫ মিনিট পর দেখি কি কেলো, রামুদা এসে হাজির, আমাকে আর খেঁচুকে নিতে। ভাবলাম হোস্টেলে বসে বসে ছেঁড়ার চেয়ে খানিক মাল টেনেই দেখা যাক, সকালে কখনো খাইনি। সাড়ে ৯টা নাগাদ তিন মূর্তি গিয়ে হাজির হলাম কলেজ মোড়ে. পাতি দরমার দোকান, তাতে সকালে খিচুড়ি চা বিস্কুট এসব বাদ দিয়ে আড়ালে আবডালে বাংলাও পাওয়া যায়। চেনা লোকদের পেতে একটু সুবিধা বেশি। তা সে দোকানে গিয়ে গোটা কয় বাংলা নিয়ে বসে পড়লাম বেঞ্চিতে। সামনে NH 31 ফাঁকা বললেই চলে। গরম আসছে আসছে তবে তখন আজকালেরমতো পেছন ফাটানো গরম পড়তোনা। তাই গাছের ছায়ায় আরাম করে বসে আড্ডা জমলো চরম, সাথে বাংলার মৌতাত। তখন সিগারেট খাওয়া ছাড়িনি তাই মদ সিগারেট জুটি জমে গেলো। ঘড়ির কাঁটার সাথে সাথে বাংলার বোতলের সারিও জমতে লাগলো টেবিলের ওপর। এরমধ্যে কেএকজন এসে ক্যারমবোর্ড পেতে ফেললো, ব্যাস সময় যে কোথা দিয়ে কেটে গেলো তার কোনো ইয়ত্তা নেই। তখন কে পাল্লা দিয়ে কত বোতল মাল টানলো তার একটা কম্পিটিশন ছিল, তাই পরিষ্কার মনে আছে ৯টা সাড়ে নটা থেকে দুপুরে খাবার সময় অবধি পাঁচ বোতল বাংলা সাঁটানো হয়ে গেছে। দুপুরে গিয়ে অনেক্ষন ধরে চান করলাম যাতে ধুনকিটা কমে আসে। রাতে আবার গাঁজলুদার সাথে মাল খাবার প্ল্যান যাতে কেঁচে না যায়। ক্যান্টিনে খেয়েদেয়ে উইংসে ঢুকেছি তো ছানা ধরলো আমায়, মাল খেতে গেলাম ওকে বলিনি কেন। কি কান্ড, বললাম আবার চল তাহলে। আবার চললাম কলেজ মোড় সাইকেল চেপে। ছানা সবে মাল খাওয়া ধরেছে, খানিক ট্রেনিং দিয়ে দিলাম বাংলা কিভাবে খেতে হবে তার। এক দেড় বোতল খাবার পর কে একজন এসে জুটলো, খুব সম্ভব চামচিকে। ছানাকে এর মধ্যে পাশের মিষ্টির দোকান থেকে বেশ গোটাকয় রসগোল্লা খাইয়ে দিয়েছি যাতে নেশাটা চড়া হয়। আবার একের পর এক বোতল জমতে লাগল। মনে আছে যে বেঞ্চিতে বসে মাল খাচ্ছিলাম আমাদের পাশে একটা ট্রাকওয়ালা ভাত খাচ্ছিলো। নেশার ঘোরে ছানাকে বললাম এই দ্যাখ, লোকটা না মাছভাজা খাচ্ছে। এই বলে দুজনে যা অট্টহাস্য লাগলাম, ট্রাকওয়ালা হাফ খাবার খেয়েই মানে মানে কেটে পড়লো। সময় প্রায় আড়াইটে তিনটে হঠাৎ মনে হলো যে না, এবার যথেষ্ট হয়েছে। নেশাটা বেশ চড়েছে, সাইকেল চালিয়ে ফিরতে আর পারবোনা। মনে হয় পাকেচক্রে আবার রামুদাকেই খুঁজে পেলাম রিক্সা করে হোস্টেল দিয়ে আসার জন্যে। ছানা তো তখন বেশ বুঁদ হয়ে আছে। মুখ বন্ধ পাছে জনতা খোরাক দেয়। এদিকে আমার ততক্ষনে ন বোতল বাংলা খাওয়া হয়ে গেছে। খেয়াল ছিল যে বমি করতে হতে পারে, তাই আমার বালতিখানা নিয়ে শুয়ে পড়লাম আমার রুমমেটের খাটে। প্ল্যান হলো একটু ঘুমোনো।

তা সে গুড়ে বালি, জনগণ মাতাল পেলেই উল্লাসে ফেটে পরে খোরাক দেখার জন্যে। সেদিন আমি ছিলাম পুরো ঠিকঠাক, বুঝতে পারছিলাম নেশা বেশি হয়ে গেছে কিন্তু একটু ঘুমিয়ে নিলেই কেটে যাবে। এদিকে জনগন বিনা পয়সায় মজা দেখার জন্যে রুম ভর্তি করে ফেলেছে। আমার রুমমেট পড়েছে চরম বিপদে। বমি করলে ওর বিছানা নষ্ট, এদিকে আমাকে সরাতেও পারছেনা। চেষ্টা করলো খানিক তেঁতুলজল কোথা থেকে নিয়ে এসে আমাকে খাওয়াতে। অনেক আপত্তি সত্ত্বেও যখন মুখে গ্লাস গুঁজে দিলো, তখন ভাবলাম, দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা। মুখ ভর্তি তেঁতুলজল পাশ ফিরে ওর খাটের পাশ দিয়ে ফেলে দিলাম। অবস্থা বেগড়বাঁই দেখে রুমমেট হাল ছেড়ে দিয়ে আমাকে ওর খাটেই ঘুমোতে দিলো।

এদিকে নেশার ঘোরে থাকায় ছানার খোরাক মিস করে গেলাম। ছানা ছিল খুব অধ্যবসায়ী ছেলে। শরীরচর্চা করতো, নিয়ম মেনে চলতো। মদ খেয়ে নিজের ওপর কন্ট্রোল চলে গেছে সেটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলোনা। রুমে ফিরে ছানা নাকি তাই গোটা পঞ্চাশ ডনবৈঠক দিয়ে দিলো, তার পরও কিছু হচ্ছেনা দেখে আমাদের কাঠের আলমারিতে নাকি দুমদাম ঘুঁষি মারতে শুরু করলো। আমাদের তাপস পাল ছিল পালোয়ান, ছানার রুমমেট, সেও ছানার সেই ফর্ম দেখে ভয়ে সিঁটকে গেছিলো কি করে ফেলে সেই ভয়ে।

খোঁয়ারি যখন ভাঙলো, দেখি সন্ধ্যে নটা। যতদূর মনে পড়ছে স্পেশাল খাবার ছিল সেদিন। খেয়েদেয়ে রেডি হয়ে গেলাম গাঁজলুদাকে ধরতে আবার রাতের রাউন্ড শুরু করার জন্যে, কিন্তু সব কীর্তিকলাপ শুনে সেদিন আর গাঁজলুদা নিয়ে গেলোনা সাথে। ওই দিনের আগে পরে বেশ কিছু বার সারা দিন ধরে বেলেল্লাপনা করেছি কিন্তু ন বোতল বাঙলার রেকর্ড সেই একবারই।

রাত

দিনের বেলা মাতলামির গল্প মনে করা সহজ কারণ খুব বেশিদিন সারাদিন ধরে ড্রিংক করা হয়ে ওঠেনি। রাতের বেলার গল্প আলাদা। এতো রাশি রাশি গল্প মনে আসে রাতের যে তার ফিরিস্তি একসাথে দেয়া মুশকিল। গোলমালের ব্যাপার হলো যে তার অনেক গল্পেই বাকি সবাই খোরাকের অংশীদার আমি ছাড়া, আমিই ছিলাম খোরাকের কারণ। সে দিনগুলোর কথা আর নাই বা বললাম, তবে ইয়ারমেটদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ আমাকে সামলে রুমে পৌঁছে দেয়ার জন্যে। ফার্স্ট ইয়ারের কথাই বলি, কারণ সেকেন্ড ইয়ার থেকে আমরা খানিকটা হলেও সিনিয়র হয়ে গেলাম। তাই প্রথম বছর উইংসে বাইরে থেকে মদ কিনে সদলবলে খাওয়ার আলাদা রোমাঞ্চ ছিল।

এমনি এক দিন দিনু মানে দিনবাজার থেকে এক বোতল হুইস্কি কেনা হয়েছে, গোটা ৭-৮ জন খাবো বলে। আমাদের ৭ নম্বর রুম ছিল তাস, সিগারেট আর মালের ঠেক, তাই আমাদের রুমেই সব এসে জুটলো। সবে পেগ বানিয়ে দু চুমুক দিয়েছি দেখি দরজা দিয়ে কে উঁকি মারছে। পানুপন্ডিত। পানু ছিল আমাদের পাশের রুমে। সিধেসাধা ছেলে, আমাদের ইয়ারের এক মেয়ের ওপর তার প্রচুর ব্যথা তখন। সবে দিন দুই আগে উইংসের সবাই ওকে পরামর্শ দিয়েছে যে সেই মেয়ের মন জিততে হলে গান গাইতে হবে। সেই দু দিন ধরে পানুর রুমমেটরা আমাদের গালি পাড়ছিলো যে সারাদিন পানু তাদের বেসুরো গলায় গান শোনাতে চাইছে। ভাবলাম বেশ তো সুযোগ। পানু আমাদের জিজ্ঞেস করলো, তোরা কি মদ খাচ্ছিস? – হ্যাঁ তুই খাবি? ভেবেছিলাম বলবে না, দেখি ঝপ করে রুমে চলে এসে আমাদের মাঝে বসে পড়লো। – বড় বড় গায়করা স্টেজে গান গাইতে ওঠার আগেই মদ খায়। আমিও খাই, গলাটা ভালো হবে। পানুর যুক্তি শুনে আমরা হাঁ। খোরাক দেখার জন্যে আমরা পানুকে বড় বড় পেগ বানিয়ে দিলাম। সেই তার প্রথম মাল ধরা, কিন্তু টপাটপ বেশ কয়েক গ্লাস খেয়ে ফেললো। আমরাও মজা দেখার জন্যে ওকে আরো বড় পেগ বানিয়ে খাওয়ালাম। নেশাটা যাতে চড়ে আরো, তাই খানিক চিনি, গ্লুকন ডি এই সব ও খাওয়ালাম যখন ও বললো যে মাথা ঝিমঝিম করছে। ওকে বলা হলো যে সুগার কমে গেছে, বেশি করে চিনি খেতে হবে। এখনো জানিনা চিনি খেলে নেশা বাড়ে কিনা কিন্তু তখন সেটা সবাই বিশ্বাস করতাম। হুইস্কির বোতল আর হাফ কৌটো গ্লুকন ডি শেষ করার পর ঠিক করলাম এবার হোস্টেলের বাইরে যাওয়া যাক।

রাতের সেই সবে শুরু। পানুকে বললাম তুই যদি সেই মেয়ের মন জয় করতে চাস তাহলে চল বাইরে লেডিস হোস্টেলে। বাইরে হাওয়া খেলে নেশাও কমবে আর সুস্থ বোধ করলে তাকে একটা গানও শোনাতে পারবি। পানুপন্ডিত টোপ খেয়ে গেলো। দলবল মিলে বেরিয়ে পড়লাম হোস্টেলের বাইরে। দু চারটে সিনিয়র দাদারা কমন রুম থেকে আমাদের সাবধান করে দিলো। ১ নম্বর হোস্টেল থেকে বেরিয়ে সব হাঁটা মারলাম কলেজের দিকে। প্ল্যান ছিল একে একে সব লুকিয়ে পড়বে, তারপর পানুকে আড়াল থেকে লক্ষ্য করবে আর খোরাক নেবে। সাইকেল ভাড়া নেয়ার দোকান অবধি গিয়ে পানু বসে পড়লো বেঞ্চিতে। ওর নাকি বেদম মাথা ঝিমঝিম করছে। আমরা ওকে লেডিস হোস্টেলের রাস্তা দেখিয়ে বললাম চল হোস্টেলে ফিরে চল। খোঁয়াড়ি অনেকটা হলেও পানু ঠিকই ধরে ফেলল ওকে কোথায় যেতে বলছি। এদিকে পানু বলছে ও হোস্টেলে ফিরবে, আর আমরা মজা লোটার জন্যে বলছি আমরা এখন হাওয়া খেতে বেড়িয়েছি, এক্ষুনি ফিরবোনা, ওর ইচ্ছে হলে ও একা ফিরতে পারে। আমরা গ্যাঁট হয়ে বসে পড়লাম বেঞ্চিতে আর পানু এদিকে ২-৩ বার হোস্টেল যাওয়ার চেষ্টা করে গোটা ৫০ গজ গিয়ে আবার ফিরে এসে বেঞ্চিতে বসে পড়লো। এখনো মনে আছে পানুর দুলে দুলে খানিক দুর হেঁটে আবার ফিরে আসা।

সেই বসে থাকা অবস্থায় পানুর হঠাৎ উপলব্ধি হলো যে মদ খাওয়া অতীব খারাপ কাজ আর আমি আর খেঁচু হলাম গিয়ে যত নষ্টের গোড়া। ওকে নাকি আমরাই খারাপ করে দিয়েছি। ভাবো কান্ড কুড়ি বছরের ধেড়ে খোকা যেচে রুমে এসে হাফ বোতল ফাঁক করে দিয়ে গেলো, আর আমরা হলাম গিয়ে দোষী। যাক সেসব গায়ে না মেখে সবাই বসে রইলাম কি করে তা দেখার জন্যে। অবশেষে আমাদের হোস্টেলের থার্ড ইয়ারের গোটা দু-তিন দাদারা বাইরে থেকে মাল খেয়ে ফিরছিলো, পানু তাদের দেখে ধরলো। দাদা আমাকে একটু হোস্টেল পৌঁছে দেবে আমি আজকে মদ খেয়েছি খুব মাথা ঝিমঝিম করছে। তা সে দয়ালু দাদারা নিজেরা খোরাক নেয়ার জন্যে পানুকে সাইকেলে চাপিয়ে হোস্টেলে নিয়ে গেলো।

ব্যাপারটা সেখানে থামলেই ভালো হতো। কিন্তু দুটো ভিন্ন ধরনের ঘটনা বললাম কারণ সব সময় সব কিছু অনাবিল ফুর্তি আর খোরাক দিয়ে শেষ হয়নি তাই। হোস্টেলে চুলকানোর লোকের অভাব ছিলোনা। সেরকমই একজন আমাদের ইয়ারমেট দেখলো বেশ মজার ব্যাপার পানুপন্ডিত আমাদের মানে আমার আর খেঁচুর ওপর খেরে আছে। ও পানুকে প্রচুর পিন মারলো যে আমরা একদম বাজে ছেলে, পানুর উচিত আমাদেরকে বাওয়াল দেয়া। ও আমাদের ক্যালালে আমরা নাকি পালাবার পথ পাবোনা। আর পানুর ব্যথা পানুর হিরোগিরির খবর শুনে নিশ্চয় ওর ওপর ফিদা হয়ে যাবে। আমাদেরই দুর্ভাগ্য যে পরদিন চান করার সময় অন্য উইংসের আরেক পানু আমাদের পানুর প্যান্ট গামছা সব লুকিয়ে দিলো। পিন খেয়ে পানু ভাবলো সেটাও আমাদের কীর্তি। সন্ধ্যে বেলা পানু ধরলো খেঁচুকে, গালাগাল ধাক্কাধাক্কি পানুর নাক ভাঙলো, আমাদের দুজনের আবার ragging শুরু হলো, পানুর বাবার বন্ধু প্রফেসর আমাদের দুজনকে সাসপেন্ড করার হুমকি দিলো – মানে সব মিলে ঘেঁটে ঘ। মোটের ওপর খোরাকটা মনে হয় আমাদের ওপর দিয়েই গেলো, পানুকে রোজ রোজ নাক দেখাতে টাউনে নিয়ে যাওয়া আসা করতে করতে। তবে হ্যাঁ, অত সবের পর শিক্ষা একটা হয়েছিল তবু, যে পাঁড় মাতাল ছাড়া কারো সাথে মদ খেতে বসার অনেক ঝঞ্ঝাট। সে ঘটনার পর থেকে পেঁচো মাতালদের সাথেই ঠেক হতো বেশি।

জলু গিয়েছি প্রথম বার তা সে নয় নয় করে হয়ে গেছে একুশ বছর প্রায়। এখন স্বাধীনতা প্রচুর, লুকিয়ে চুরিয়ে ব্ল্যাকে মদ কিনতে হয়না। ঘরেই খাওয়া যায়। ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার, ফাইনাল, চাকরি – যত বয়েস বেড়েছে, মাল খাবার সুযোগও বেড়েছে, আর সেটা যত সহজলভ্য হয়েছে, নেশাভাঙের যে থ্রিলটা ১৩-১৪ তে ছিল, ২৩-২৪এ তার অনেকটাই চলে গেছে। নিষিদ্ধ কিছু একটা করার যে রোমাঞ্চ সেটা চলে যাবার পর মদ খাওয়াটা তেমন আর উপভোগ্য রইলোনা। দারু খেতে বসে মদের চেয়ে খাওয়ার অর্ডার হতো বেশি। শেষ যে কবে মাল খেয়ে আউট হয়ে গেছি মনেই পড়েনা। ৭ বছর আগে পুজোয় বাড়ি গিয়ে, সেটাই বোধহয় শেষ বার।

তাই জলুর রঙবেরঙের দিনরাত্রির কথাগুলো মনে পড়লে মন চলে যায় কুড়ি বছর পেছনে। বিছানার পাশে বালতি। খোরাকের থেকে বাঁচতে ছাদের ট্যাঙ্কের ওপর শোয়া দালাল। অ্যানিভার্সারীর বাংলা মেশানো রসনা। সিদ্ধিতে মেশানো মাকড়সার জাল। ফাঁকা বোতল ভেঙে নেশার ঘোরে তার ওপরই ঘুমিয়ে পড়া। হাইওয়ের ধারে বাংলা আর ক্যারম। কলেজে প্রথম দিন ফাইনাল ইয়ারের ছেলের জল বলে দেয়া বাংলা। পোদুদার কাছে ব্যাপ্টিজম। Holy Water এর বদলে রাম। নস্টালজিয়া। কোথায় আজ সেই রাম, কোথায় সেই অযোধ্যা, থুড়ি জলু। হেথা নয় বন্ধু অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে। নাকি জলু আছে সেই জলুতেই, খালি চরিত্রগুলো পাল্টে গেছে?
Advertisements
Standard
contes de fantasme, Life experience

La serrure possédée: un histoire de quasi fantasme

C’était les printemps de l’année 1997, quand j’étais étudiant d’ingénierie dans l’université, situé près des nord-est provinces d’Inde. Jalpaiguri, la ville de l’uni, est connue comme un paradis pour les gens qui aiment la nature. D’habitude, le campus fut aussi magnifique — avec un plantation de thé aux côtés nord et ouest, découpée par les chemins de fer connectant les provinces nord-est, et deux rivières argentées à l’est et l’ouest, qui roulèrent lentement chaque jour— ainsi formée la périphérie de notre campus. Les printemps, une brise légère soufflait sur Danguajhar, le plantation de thé, mais fondée centaines de kilomètres au nord, dans les forêts des Dooars — sur pas de Himalaya de l’est. Sans doute, cela fit un derrière plan tout parfait pour cet histoire de fantasme j’eus témoin, que je vais raconter. 

Au nord de notre immeuble eût une grande salle de jeux — équipée avec une télé, trois jeux de Carom, et le dernier ajout, une table de ping-pong . En face de la porte, à l’autre coin de la salle eût une petite porte, qui ouvrit dans une petite salle. Nous, les résidents du immeuble, l’appelions le News Room. Dans cette salle-là, il y avait seulement trois meubles —  une grande table et deux bancs — un à chaque coté. Deux fenêtres donnaient sur la rue vers l’immeuble pour les étudiants des année finale, et derrière la rue commença la plantation de thé — toute verte et élégante. Le News Room eût réservé pour lire les journaux quotidiens ou magazines. La salle n’ouvrait qu’entre 12:00h et 16:00h, quand les étudiants mieux sérieux de sa carrière passeraient le congé savoir les actualités autour du monde, tandis que les autres jouaient au Carom ou cartes. 

Cette année le ping-pong eut particulièrement favorite parmi les étudiants. Nous avons reçu quelque financement sportif, et donc venue une nouvelle et chique table du ping-pong. Cette année nous partagions l’auberge avec les étudiants de troisième année, et il y avait quelques règles sans être écrits, pour exemple, jouer en premier ou voir la chaîne de télé préférée. Sauf si un certain étudiant de 3ème année eut pitié des premières années attendant avec impatience, ça faisait une attente trop longue avant qu’on put jouer. Les premières années avaient de la chance après le dîner, quand les troisièmes années commençaient à retourner vers ses chambres pour étudier ou joindre les championnats des cartes. Mon colocataire Tathagata et moi, nous étions très intéressés d’apprendre ping-pong, mais l’attente semblait continuer sans fin.

Notre histoire commence un de ses soirs quand nous nous sommes dits qu’on en a eu assez et il a fallu faire quelque chose de diffèrent si nous voulions jouer. Nous avons décidé que malgré avoir la classe le lendemain, nous attendrons jusqu’à ce que les troisième années sont partis et il n’y a personne attendant ses tours.  Notre décision a finalement payé, quand vers 23:30h, la foule commença à vider la salle de jeux. Les lampes au-dessus les planches du carom ont été éteints, les planches ont été couvertes, la télé a été éteint. Peu à peu la salle devint complètement vide, sauf que quelques premières années, également passionnés comme nous d’améliorer leurs compétence de ping-pong . Après chaque jeu, on changeait la tour avec les autres groupes, mais aucun eut très précisé, et donc l’attente n’était jamais plus de dix minutes. Les dernières groupes sont retournés à ses chambres vers minuit et demi, nous laissant la chambre entièrement, faiblement éclairé par une seule lampe au-dessus de la table de ping-pong. 

Tic…toc…tic…toc…la bruit de la balle contre la batte devenait plus en plus ennuyeuse. Nos corps trop fatigués, mais tout de même nous continuions avec plein de l’esprit. La horloge semblait ennuyeuse aussi en nous montrant le temps 1:00…1:30…2:00. Toutes les fois que je gagnais l’échange, la balle sortait hors de la salle, donc Tatha est allé fermer la porte. Nous avons recommencé dans la salle tout isolé du monde au dehors, et le son a tout à fait doublé à cause de résonner contre la mur loin de la table. Nous avons déjà oublié de la class le lendemain, et comme les Zombies, comme automates contrôlés par les commandes distants, on a continué à jouer, comme si c’était le seul but de notre vie.

l’état d’ennui est enfin cassé quand Tatha, avant de servir, a hésité et arrêté pour un instant, en regardant quelque chose derrière moi. 
– Qu’est ce qui ce passe? Pourquoi tu ne sers pas?
– Je pense que j’ai vu quelque chose bouge au coin, vers la porte de News room.

J’ai tourné vers la porte, mais rien n’a aperçu par mes yeux. Nous avons rengagé en notre jeu et tout oublié trop tôt. Une autre demi-heure est passée, nous ne pouvions pas continuer pour longtemps et donc décidés de jouer trois dernières jeux, dont l’un qui gagne deux sera vainqueur. 

Pendant notre deuxième jeu, Tatha a frappé la balle forcément, que je n’ai pas pu retourner. La balle a roulé vers la coin ombreuse, ou se trouvait la télé et la porte de News room. Tout que j’ai ramassé la balle et revenais a table, j’ai regardé à Tatha et son regard m’a tout à fait étonné. Sa visage complètement blanche comme une papier, yeux froncés, en essayant regarder quelque chose derrière moi. D’habitude, à mon enfance, grâce à lire toutes les types de livres, je le trouve très facile à imaginer quelque chose de bizarres, et en avoir peur. Quand j’ai vu Tatha dans tel état, j’ai tout de suite imaginé que quelque chose d’extraordinaire va se passer devant mes yeux. Malgré la fatigue, mon corps est devenu instamment alerte et un jet de Adrénaline a retardé la passage du temps. Mon cœur battrait trop fort, j’ai demandé:
– Qu’est-ce qui se passe maintenant? Quel est le problème?
– J’ai vu la serrure bouger. Là-bas!

Il indiquait la porte de News room encore!
– Quel absurdité! Comment peut la serrure bouger quand il n’y a personne ici sauf que nous?
– Mais j’en suis sur cette fois!
– Je ne te crois pas. Peut-être tu as vu la lumière reflétant de la serrure. 

À ce moment-là, j’ai regagné ma sang-froid. Une serrure bougeant!!! j’étais au point de rire aux éclats. Pour que nous soyons surs et finissions le jeu, j’ai décidé a rentrer vers la porte de News room. En voyant le coin, quand-même, ça m’a fait un peu peur encore, avec la faible lueur de la lampe, les murs et coins mal-éclairés et ombreux – ça faisait un air très étrange et mystérieux. La serrure restait comme avant – pièce de métal sans-vie, accroché au verrou comme prévu. J’ai crié à Tatha
– Voilà, tu vois! Il n’y a rien et personne ne la bougeait. Allons-y finir ce jeu et retournons à la salle, il est trop tard.

Tatha semblait rassurée, et j’ai commencé à rentrer à la table de ping-pong. 

Soudain, Tatha cria avec un ton très effrayant, et ma sang-froid est cassée et disparue. 
– Hanu! Voir encore, ça bouge…je te dis que la porte bouge maintenant. Vois-la!

J’ai commencé à douter ma logique et croire que quelque chose de sinistre allait se passer. Mon cœur courrait trop fort mais j’essayais à avoir raison pour les évènements – pourquoi la serrure semblait bouger. 
– Qu’est-ce que ça vaut dire Tatha? Tu rigoles ou quoi? Ce n’est pas l’heure, tu sais!
– Je le jure Hanu! Là, regarde, ÇA BOUGE ENCORE!! Cours maintenant, cette porte est possédée. Il y a quelque chose de sinistre derrière la porte! Il faut fuir!

rte, en regardant curieusement la serrure. Le temps doivent s’est arrêté à ce moment-là, comme je voyais la serrure rester paresseusement contre le verrou, comme si c’est nous qui avons tort et rien ne s’est passé. Et puis ce se passait!! J’ai vu avec mes yeux-même que la serrure a commencé à bouger, et rien ne le faisait bouger. Pas seulement un tremblement soudain, la serrure a commencé a Renverser, d’abord lentement, et puis plus en plus rapide tant qu’elle a été complètement renversé avec la trou de serrure en face de moi.

Il y a des moments en ma vie que je ne pourrai jamais oublier, et n’importe quand, je me peux les souvenir sans aucune difficulté, sans perdre aucun détail. Ce moment-là, ce printemps soir a devenu un de ces moments, un moment quand j’avais peur que je n’avais jamais ressenti. Ces sont les moments quand, n’importe comment logique vous êtes, la raison sort le cerveau, et vous êtes laissé dans un état de choc et confusion. La peur. La crainte. C’était tous ce que je sentais à ce moment. Mon cœur battait trop fort comme s’il allait sortir ma poitrine. Il fallait qu’on fuissent mais comme si une force inconnue m’attrapé dans la terre. Je ne pouvais pas mouvoir mes jambes, comme s’il étaient remplis de plomb. La serrure, dans sa position défiant  la gravité, semblait d’envoyer un certain message du monde surnaturel, de fantasme au notre monde animé et la serrure était la dernier protection de l’écran – la porte de News room, entre les deux mondes. 

L’adrénaline dan mes veine a du fait ma perception temporelle extrêmement prolongée, comme tous ce moment d’un regard hypnotisé sur la serrure et sa mouvements n’a pas dure plus de dix secondes. Je suis arrive mes sens retour quand j’ai écouté Tatha crie
– Hanu, la porte est possédée. Courrons-nous à la chambre!

Ce cri m’a rapporté aux mes sens et éclaté l’état de mesmérisme. La phénomène qui m’attrapé dans ma place est levée, et je pouvais enfin mouvoir. Je me souviens que j’étais déjà croisée Tatha avant qu’il a fini sa phrase, en jetant les batte de ping-pong  sur table. Il a fallu que nous ayons fermé la porte a clé,  et avec les mains tremblants, ça  nous a fait quelques minutes, que nous ne devenions pas perdre. Je pensais que touts les temps que nous perdons, la terreur de l’obscurité et la fantasme étaient un peu plus proche de nous consommer. Se réfléchir ce moment après un vingtaine d’ans, nous étions comme les dernières lignes du chanson Hotel California, <<Last thing I remember, I was running for the door, I had to find the passage back to the place I was before>>. Au dehors de la salle de jeux, la foyer était faiblement éclairé, et il y avait une foule de bicyclettes bloquant notre chemin. Nous avons couru vers notre chambre, jetant quelques bicyclettes en route. Tout le temps on craignait quelque chose de sinistre va se passer, notre existence était en danger. Quand nous sommes rentrés dans notre chambre, nous étions au but du souffle. Nous ne pouvions pas croire ce qui s’est passé devant notre yeux-même. Le cœur battant forcement, je jouais ces événements dans mes cerveau mais malheureusement, je n’ai plus trouvé aucune explantation. La rencontre avec l’autre cotes du monde-vivant fait disparaître tous nos courage et raison. Était-il un âme perdu? Ou peut-être il y avait quelque chose d’horrible est arrivée dans cette salle de News room. Nous ne saurons jamais ce qu’il était, mais cet incident cette nuit de printemps est définitivement été gravées dans mon mémoire, même si je souhaite plutôt qu’il n’a jamais passé. Nous savions que le lendemain, quand nous raconterons notre histoire, personne ne croira notre expérience. Pourtant, nous nous souviendrons toujours ces quelques secondes qui mettent notre existence en question – notre rencontre avec l’autre côté. L’incident du «fantôme serrure» allait devenir l’un des moments les plus mémorables de ma vie, ainsi que les plus grands mystères, parce que je ne serai jamais savoir, c’était qui a levé la serrure dans l’air pour toute la durée que nous étions là. En réfléchissant la salle faiblement éclairé, le tic-tocs du ping-pong, les mosaïques inexplicables formé par l’ombre et la lueur de la lampe, une serrure bougeant – il me va toujours faire me demander, ce qui était là, derrière cette sombre porte ce soir-là? Si seulement je savais. Ou plutôt pas …

PS: En fait, il a été découvert ce qu’il était le lendemain matin. Comme prévu, notre histoire a été accueillie avec le ridicule et le mépris. À midi, une groupe des premières années alla à la porte, pour prouver qu’il était seulement notre imagination et de la superstition. Et encore une fois, en plein jour, la serrure a commencé à bouger et puis se lever … montant lentement avant tout le monde, le trou de serrure en face de leurs yeux. L’hystérie qui a suivi était incroyable. La plupart de la groupe a disparu, courant aussi vite que possible. Mais certains braves retournèrent à la porte. Précisément, a ce moment-la, le mystère dévoilé, comme ils ont remarqué que la porte mouvait. C’était le printemps Dooars brise jaillissant intérieur de News room poussant la porte. La brise a fait la porte frapper et donc bougea la serrure. Le mystère a été résolu, la salve de dérision contre nous a été quadruplé que nous n’avions pas comprendre cette simple raison. Pourtant, je me souviens de cette nuit comme il est arrivé, lorsque les lumières et les ombres jouaient avec notre cerveaux, et le manque de lumière à brouillé la ligne entre les mondes de la réalité et l’imaginaire. Peut-être il y avait quelque chose ou quelqu’un derrière cette porte ce soir-là, mais nous ne le saurons jamais. Il y était probablement si vous en croyez, ou rien si vous ne le croyez pas …
Standard
contes de fantasme, Ghost Story, Life experience, Trilingual experiment

A trilingual experiment of a supernatural experience

It was the spring of 1997, and I was in my first year studying degree in engineering in a quaint town of Jalpaiguri in north Bengal. The campus was a nature lover’s paradise — the north and west peripheries abutted the verdant Danguajhar tea garden, two silvery rivers meandering along east and west boundaries. In spring, the soft breeze blew from the north — down from the Dooars, the hinterland of the eastern Himalayas. Nothing could provide more thrilling backdrop to the spine-chilling, bloodcurdling experience that I witnessed on that spring night, which I’m going to unfurl. 

আমাদের এক নম্বর হোস্টেলের একতলায় উত্তরের দিকে ছিল একটা বড় কমন রুম, যেখানে হোস্টেলের সবাই সময় কাটাতে আসত। কমন রুমে ছিল একটা কালার টিভি, গোটা তিন ক্যারাম বোর্ড আর সেই লিস্টে নতুন আমদানি একটা ঝাঁ চকচকে টেবিল টেনিস বোর্ড। কমন রুমের দরজার উল্টোদিকের দেয়ালে, টিভি স্ট্যান্ডের পাশে আরেকটা ছোটমত দরজা। সেই দরজার পেছনে একটা ছোট্ট ঘর, আমরা বলতাম নিউজ রুম। সে ঘরে ছিল খালি একটা দেয়াল জোড়া বড় টেবিল আর দুপাশে দু সারি বেঞ্চি। নিউজ রুমের পেছনের দেয়াল জুড়ে খড়খড়ি দেয়া জানলা, যেখানে তাকালে তিন নম্বর হোস্টেলের রাস্তা তার পর থেকে চা বাগান শুরু। নিউজ রুমটা ছিল হোস্টেলের পড়ুয়া ছেলেদের খবরের কাগজ পড়ার জায়গা। ঘরটা খোলা হতো ১২টা থেকে ৪-৫টা অবধি, শনি রবিবার আরেকটু আগে থেকে। তবে খুব বেশি লোকজন যে ব্যগ্র ছিল সারা বিশ্বের খবর জানার জন্যে তা বললে ভুল হবে। ঘরটা বেশির ভাগ সময় ফাঁকাই থাকত।

Cette année le ping-pong eut particulièrement favorite parmi les étudiants. Nous avons reçu quelque financement sportif, et donc venue une nouvelle et chique table du ping-pong. Cette année nous partagions l’auberge avec les étudiants de troisième année, et il y avait quelques règles sans être écrits, pour exemple, jouer en premier ou voir la chaine de télé préférée. Sauf si un certain étudiant de 3ème année eut pitié des premières années attendant avec impatience, ça faisait une attente trop longue avant qu’on put jouer. Les premières années avaient de la chance après le dîner, quand les troisièmes années commençaient à retourner vers ses chambres pour étudier ou joindre les championnats des cartes. Mon colocataire Tathagata et moi, nous étions très intéressés d’apprendre ping-pong, mais l’attente semblait continuer sans fin.

Notre histoire commence un de ses soirs quand nous nous sommes dits qu’on en a eu assez et il a fallu faire quelque chose de diffèrent si nous voulions jouer. Nous avons décidé que malgré avoir la classe le lendemain, nous attendrons jusqu’à ce que les troisième années sont partis et il n’y a personne attendant ses tours.  Notre décision a finalement payé, quand vers 23:30h, la foule commença à vider la salle de jeux. Les lampes au-dessus les planches du carom ont été éteints, les planches ont été couvertes, la télé a été éteint. Peu à peu la salle devint complètement vide, sauf que quelques premières années, également passionnés comme nous d’améliorer leurs compétence de ping-pong . Après chaque jeu, on changeait la tour avec les autres groupes, mais aucun eut très précisé, et donc l’attente n’était jamais plus de dix minutes. Les dernières groupes sont retournés à ses chambres vers minuit et demi, nous laissant la chambre entièrement, faiblement éclairé par une seule lampe au-dessus de la table de ping-pong. 

Tic…toc…tic…toc…tic…toc…our ears gradually got bored to the incessant din of the ping pong ball on the bat. Arms got heavier, yet high on spirit, we carried on, mastering the spinning serves or backhand smashes, and the hands of the clock on the wall nonchalantly kept telling us the time 1:00 to 1:30 to 2:00. As I stood facing the door, tired of the ball going outside the common room, Tatha shut the door and we carried on playing with same élan. We were extremely tired, yet we continued like zombies, as if we were being controlled by some remote psychomotor commands and our only aim was to keep on playing. 

আমাদের একঘেয়েমি ভাঙলো তথা সার্ভ করতে গিয়ে হঠাৎ থমকে দাঁড়ানোয়। ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে ও আমার পেছনের দেয়ালের দিকে কিছু একটা দেখছে। একে এত রাত তার ওপর সময় নষ্ট, জিজ্ঞাসা করলাম
– কিরে সার্ভ করছিসনা কেন? থামলি কি কারণে?
চোখ না সরিয়ে তথা উত্তর দিল
– মনে হলো কিছু একটা যেন নড়ছিল ঐ দরজাটার দিকে।
তথার আঙ্গুল নিউজ রুমের দরজার দিকে নির্দেশ করছে।
– ধুর ওখানে আবার কি নড়বে। পোকামাকড় হবে। 
তাই হবে। হয়ত ল্যাম্পের আলোটা কোথাও রিফ্লেক্ট করে চোখে পড়েছে। 

আবার শুরু করলাম খেলা কিন্তু ঠিক করলাম যে তিনটে গেম খেলব কে জিতবে ঠিক করার জন্যে, তারপর রুমে ফিরে যাব। 

It was halfway through our game, when Tatha smashed a winner and the ball rolled on towards the back end of the room. Just as I picked the ball up and was coming back to the table, I looked at Tatha and saw his startled face, and the frowned eyes looking behind me. By nature, I can imagine things quite easily and be scared, nevertheless  usually I still can keep my logical hat on — only real things make me afraid. Looking Tatha in such a state sent a gush of adrenalin through my blood, and my body became instantly alert to witness something out of the ordinary. My heart racing, I asked Tatha again
— what’s the matter with you now?
— I saw the lock move. 
— what nonsense. You must have seen the light reflecting on the lock. 

À ce moment-là, j’ai regagné ma sang-froid. Une serrure bougeant!!! j’étais au point de rire aux éclats. Pour que nous soyons surs et finissions le jeu, j’ai décidé a rentrer vers la porte de News room. En voyant le coin, quand-même, ça m’a fait un peu peur encore, avec la faible lueur de la lampe, les murs et coins mal-éclairés et ombreux – ça faisait un air très étrange et mystérieux. La serrure restait comme avant – pièce de métal sans-vie, accroché au verrou comme prévu. J’ai crié à Tatha
– Voilà, tu vois! Il n’y a rien et personne ne la bougeait. Allons-y finir ce jeu et retournons à la salle, il est trop tard.
Tatha semblait rassurée, et j’ai commencé à rentrer à la table de ping-pong. 

Suddenly my composure was shattered by a rather uncharacteristic raspy shout by Tatha
— HONU, I swear it just moved again! 
With a déjà vu moment, my composure disappeared again, and I started to doubt my logical self, thinking something sinister was about to happen. Goosebumps shot up all over my fatigued and sweaty body, yet I tried to run through all plausible explanations why Tatha saw the lock move. 
— what do you mean? It’s not the time for a prank you know! 
— I swear it MOVED! Oh look, IT MOVED AGAIN!!! Come away Honu, something spooky behind that door it’s trying to come out!

এটা শুনেই হাড় হিম হয়ে গেল আমার। কমন রুমে খালি আমি আর তথা দুজনেই পনের বিশ ফুট দুরে যখন তথা প্রথম বার দেখতে পেয়েছিল। তালাটা যদি নিজে নিজে নড়ে তাহলে সেটা যে ভৌতিক কান্ড তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তা সত্ত্বেও পালাবার আগে একবার দেখে নেয়ার উৎকন্ঠা সামলাতে পারলামনা। পেছন ঘুরে দাঁড়ালাম নিউজ রুমের দরজার সামনে। তালা আবার আগের মত ঝুলছে, নড়ার কোনো চিহ্নই নেই। বামুনকে খিস্তি মারব বলে ঘুরতে যাচ্ছি ঠিক সেই সময় চোখের সামনে যা ঘটল তার বর্ণনা এখনো পুঙ্খানুপুঙ্খ মনে রয়েছে। তালার থেকে আমার চোখ হয়ত পাঁচ ফুট হবে মেরেকেটে, অত কাছ থেকে ভুল দেখা সম্ভব নয়। তালাটা যেন হঠাৎ কোনো জাদুমন্ত্রে প্রাণ ফিরে পেল। প্রথমে একটু নড়ে উঠলো, তারপর তলার হুকের দিকটা কড়ার মধ্যে থাকলেও তাকে কেন্দ্র করে তালার মেন বডিটা ঘুরে উপরের দিকে উঠতে লাগলো – প্রথমে আসতে আসতে, তারপর বেশ তাড়াতাড়িই। তালা যখন থামল তার যাত্রা শেষ করে, চাবির দিকটা আমার চোখের সামনে। চাক্ষুষ একটা তালা ঘুরে নিচের দিকটা উপরে হয়ে দাঁড়িয়ে, নিউটন সাহেবের মাধ্যাকর্ষণ নস্যাৎ করে।

Il y a des moments en ma vie que je ne pourrai jamais oublier, et n’importe quand, je me peux les souvenir sans aucune difficulté, sans perdre aucun détail. Ce moment-là, ce printemps soir a devenu un de ces moments, un moment quand j’avais peur que je n’avais jamais ressenti. Ces sont les moments quand, n’importe comment logique vous êtes, la raison sort le cerveau, et vous êtes laissé dans un état de choc et confusion. La peur. La crainte. C’était tous ce que je sentais à ce moment. Mon cœur battait trop fort comme s’il allait sortir ma poitrine. Il fallait qu’on fuissent mais comme si une force inconnue m’attrapé dans la terre. Je ne pouvais pas mouvoir mes jambes, comme s’il étaient remplis de plomb. La serrure, dans sa position défiant  la gravité, semblait d’envoyer un certain message du monde surnaturel, de fantasme au notre monde animé et la serrure était la dernier protection de l’écran – la porte de News room, entre les deux mondes.

L’adrénaline dan mes veine a du fait ma perception temporelle extrêmement prolongée, comme tous ce moment d’un regard hypnotisé sur la serrure et sa mouvements n’a pas dure plus de dix secondes. Je suis arrive mes sens retour quand j’ai écouté Tatha crie
– হনু পালা। ওই ঘরে ভূত আছে।

Ce cri m’a rapporté aux mes sens et éclaté l’état de mesmérisme. La phénomène qui m’attrapé dans ma place est levée, et je pouvais enfin mouvoir. Je me souviens que j’étais déjà croisée Tatha avant qu’il a fini sa phrase, en jetant les batte de ping-pong  sur table. Il a fallu que nous ayons fermé la porte a clé,  et avec les mains tremblants, ça  nous a fait quelques minutes, que nous ne devenions pas perdre. Je pensais que touts les temps que nous perdons, la terreur de l’obscurité et la fantasme étaient un peu plus proche de nous consommer. Se réfléchir ce moment après un vingtaine d’ans, nous étions comme les dernières lignes du chanson Hotel California, <<Last thing I remember, I was running for the door, I had to find the passage back to the place I was before>>. Au dehors de la salle de jeux, la foyer était faiblement éclairé, et il y avait une foule de bicyclettes bloquant notre chemin. Nous avons couru vers notre chambre, jetant quelques bicyclettes en route. Tout le temps on craignait quelque chose de sinistre va se passer, notre existence était en danger. Quand nous sommes rentrés dans notre chambre, nous étions au but du souffle. Nous ne pouvions pas croire ce qui s’est passé devant notre yeux-même. Le cœur battant forcement, je jouais ces évènements dans mes cerveau mais malheureusement, je n’ai plus trouvé aucune explantation. La rencontre avec l’autre cotes du monde-vivant fait disparaitre tous nos courage et raison. Était-il un âme perdu? Ou peut-être il y avait quelque chose d’horrible est arrivée dans cette salle de News room. Nous ne saurons jamais ce qu’il était, mais cet incident cette nuit de printemps est définitivement été gravées dans mon mémoire, même si je souhaite plutôt qu’il n’a jamais passé. Nous savions que le lendemain, quand nous raconterons notre histoire, personne ne croira notre expérience. Pourtant, nous nous souviendrons toujours ces quelques secondes qui mettent notre existence en question – notre rencontre avec l’autre côté. L’incident du «fantôme serrure» allait devenir l’un des moments les plus mémorables de ma vie, ainsi que les plus grands mystères, parce que je ne serai jamais savoir, c’était qui a levé la serrure dans l’air pour toute la durée que nous étions là. En réfléchissant la salle faiblement éclairé, le tic-tocs du ping-pong, les mosaïques inexplicables formé par l’ombre et la lueur de la lampe, une serrure bougeant – il me va toujours faire me demander, ce qui était là, derrière cette sombre porte ce soir-là? Si seulement je savais. Ou plutôt pas …

পরিশেষ: কি ছিল দরজার পেছনে সেই রহস্যের যবনিকা উঠলো পরদিন। যেমনটা আশা করেছিলাম ঠিক তাই। যতজনকে বললাম আমাদের অভিজ্ঞতার কথা সবাই অনেক ঠাট্টা করলো। এসব নাকি ছিল আমাদের কল্পনা আর গোঁড়া কুসংস্কার। দুপুরের দিকে একদল ফার্স্ট ইয়ার আমাদের টানতে টানতে নিয়ে গেল কমন রুমে। উদ্দেশ্য প্রমান করা যে আমরা ভুল দেখেছি। আমাদের যাবার কোনো প্রবৃত্তি ছিলনা তাই পেছনে দাঁড়িয়ে রইলাম, বাকিরা প্রবল উৎসাহে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে জরিপ করতে লাগলো চারদিক। হঠাৎ সেই ভরদুপুরে আমাদের দু জোড়া নয় একগাদা চোখের সামনে তালা আবার ওপরের দিকে ঘোরা আরম্ভ করলো। অতিউৎসাহীর দলের সেই উচ্ছ্বাস নিমেষে মিলিয়ে গেল, সবাই যে যার মত দরজার দিকে দৌড়তে আরম্ভ করলো। দাঁড়িয়ে ছিল যতদুর মনে পড়ে বিক্রম আর ডিফেন্স। ওরা খানিক পিছু হঠে আবার গেল দরজার সামনে, আর তখনি বোঝা গেল আসল কারণ। ওরা দেখল যে নিউজ রুমের দরজাটা নড়ছে, আর যতবার দরজা পেছনের দিকে সরছে তালাটা ওপরের দিকে ওঠার চেচ্টা করছে ঠেলা মেরে। এতক্ষণে বোঝা গেল দায়ী টা কে। সেটা ছিল ডুয়ার্স থেকে ভেসে আসা বাতাস – নিউজ রুমের খড়খড়ি পেরিয়ে ওই হাওয়া ঠেলা মারছিল দরজায় আর দরজার কড়া তালাকে ঠেলছিল খাড়া হবার চেষ্টায়। রহস্য সমাধান হয়ে গেল, অতি সাহসীরা আবার ফিরে এলো, পিঠ চাপড়ানো হলো সবার, আমি আর তথা হয়ে গেলাম আবার খোরাকের টার্গেট যেহেতু আমরা দুয়ে দুয়ে চার করতে পারিনি। সত্যি আর কল্পনার জগতের তফাতটা রাতের দিকে অনেক বেশি অস্পষ্ট, দিনের বেলা যা পরিষ্কার ভাবে দেখা যায়, রাতের বেলা আলো আঁধারীতে তাকেই মনে হয় ভৌতিক। মনে কিন্তু খটকাটা রয়েই গেল। সেই রাত্তিরে ওই দরজার পেছনে সত্যিই কি কেউ ছিল?  উত্তরটা মনে হয় লুকিয়ে আছে আমাদের মনের ভেতর। কেউ ছিল সে রাত্রে যদি আমরা মনে করি কেউ ছিল।  যদি মনে করি ছিলনা, তাহলে সেটা শুধু হাওয়ার খেলা।

PPS: On that night, after coming back in our room, we realised that we needed to go to the toilet, yet could not walk along the empty and dark corridor again to, nor open the grilled window to do it. So we used Rahul Singh’s bucket we borrowed the previous day for shower. If Rahul ever reads this, this is an unreserved apology for peeing in your bucket without permission, under unavoidable circumstances. 
Standard
Ghost Story, Life experience

The curious incident of the possessed lock

It was the spring of 1997, and I was in first year studying degree in engineering in a quaint town of Jalpaiguri in North Bengal. The campus was a nature lover’s paradise — the north and west peripheries abutted the verdant Danguajhar tea garden, two silvery rivers meandering along east and west boundaries. In spring, a soft breeze blew from the north — down from the Dooars, the hinterland of the eastern Himalayas. Nothing could provide a more thrilling backdrop to the spine-chilling, bloodcurdling experience I witnessed on that spring night, which I’m going to unfurl. 

On the northern side of our first year hostel, there was a common recreation room, with a TV, a number of carom boards and the latest addition — a new table tennis board. At the far corner, a door led to a small ante room, filled with a long table and narrow benches, and large slatted windows opened up to the lush greens of the tea gardens. We used to refer it as News room, and it only opened at daytime between midday and 4 pm. At lunchtime, keen students would spend the lunch break in this room, soaking up the news around the world, to sharpen their general knowledge, whilst the other despotic ones would turn the TV on, or try a game of carom or some table tennis. 

That year, table tennis was particularly favourite, as the hostel received a sports funding, and the boarders saw a swank new table tennis board, and a number of thick rubber padded new bats. We shared the hostel with third year students, and there was an unwritten rule that they get to play first, unless some senior took pity on the eagerly waiting hapless fresher, looking dejected from the long wait. The first years started to flock around the tables after dinner, as the seniors began to go back to their rooms for coursework or bridge sessions. My roommate Tatha and I were very keen to find some time to hone our paddling skills, yet the wait seemed to be endless. 

Our story begins on one such weekday evening, when we had enough and decided to stay back, as long as it took, to play more than just one game. Our perseverance finally paid off, when, around 11:30pm, the crowd started to disperse. Lights over carom boards went out first, boards covered with dark blue jackets, then a while later TV was turned off, as the last few of the TV addicts got up to get ready for bed. Just a few more of our classmates hovered around, and taking turns after each game, we were not too disappointed. The last two or three went to bed about half past midnight, leaving us the empty common room, a dimly lit incandescent lamp just over the table tennis board — struggling to illuminate past the rickety steel chairs behind us. 

Tic…toc…tic…toc…tic…toc…our ears gradually got bored to the incessant din of the ping pong ball on the bat. Arms got heavier, yet high on spirit, we carried on, mastering the spinning serves or backhand smashes, and the hands of the clock on the wall nonchalantly kept telling us the time 1:00 to 1:30 to 2:00. As I stood facing the door, tired of the ball going outside the common room, Tatha shut the door and we carried on playing with same élan. We were extremely tired, yet we continued like zombies, as if we were being controlled by remote psychomotor commands, and our only aim was to keep on playing. 

That state of active ennui broke, when Tatha paused for a moment before serving and looked past me, and stood still. “What’s going on? Why aren’t you serving?”, I asked. Tatha paused for a moment then said, “I thought I saw something flash around that door”. He was pointing at the door to the news room. Then he said it must be the light catching something. We carried on playing and soon forgot about it. Another half hour passed, and we decided to call it a day after best of three sets. 

It was halfway through our game, when Tatha smashed a winner and the ball rolled on towards the back end of the room. Just as I picked the ball up and was coming back to the table, I looked at Tatha and saw his startled face, and the frowned eyes looking behind me. By nature, I can imagine things quite easily and be scared, nevertheless I can still keep my logical hat on — only real things make me afraid. Looking Tatha in such a state sent a gush of adrenaline through my blood, and my body became instantly alert to witness something out of the ordinary, occurring behind my back. My heart racing, I asked Tatha again
— what’s the matter with you now?
— I saw the lock move. 
— what nonsense! You must have seen the light reflecting on the lock. 

At this point, I have gained my composure back. I reasoned my thoughts, that we have been playing for a long time, with the main door to the common room shut, so no one could have come in. I looked back at the news room door and the new lock on the hasp and staple bolts. Although the dimly lit room, barely managing to illuminate the dark corners, created an eerie sight, I decided to overcome my initial fear and walked up to the door. The lock remained as it was — lifeless lump of metal, hanging from the latch as expected. Its stainless steel body throwing back some of the paltry light coming from the lamp over the table tennis board. I shouted back at Tatha “see there’s nothing here, the lock did not move! Let’s just have this game and get back to the room”. Tatha looked reassured as well. So I started walking towards the board, trying to reconvene where we left the game.

Suddenly my composure was shattered by a rather uncharacteristic raspy shout from Tatha
— HONU! I swear it just moved again! 

With a déjà vu feeling, my composure disappeared again, and I started to doubt my logical self, thinking something sinister was about to happen. Goosebumps shot up all over my fatigued and sweaty body, yet I tried to run through all plausible explanations why Tatha saw the lock move. 
— what do you mean? It’s not the time for a prank you know! 
— I swear it MOVED! Oh look, IT MOVED AGAIN!!! Come away Honu, something spooky behind that door it’s trying to come out!

Spooky and I don’t get along very well, yet out of indomitable urge to know what’s going on, rather than running away, I took a few steps back towards the news room door, curiously watching the lock. Time must have stood still at that moment, as I saw the lock still lying limp on the door latch…and then it happened! I stood a metre away from the door, and right in front of my eyes, the lock started to move! Not just an odd shake, it started to turn upwards. Its shackle still fastened through the staple part of the latch, the lock turned upwards — first slowly, moving only millimetres, then much faster — until it turned completely upside down, when it stopped with the keyhole facing me.

There are moments in my life, which I will never forget, and can reminisce any time without a chance of that memory fading away, and that was the moment the most scared I ever felt. These are the moments, where logic bids adieu scratching its head as it had no explanation, leaving the witness in a state of utter shock and fear. Fear. That’s was all I could feel was engulfing me rapidly, the molten fear running through my veins, my heart trying to burst apart in anticipation of what’s happening next. My limbs felt all numb, even if I knew my mind is telling me to run, my legs felt as if they were filled with lead. Transfixed at the gravity defying position of the lock, at that moment of time, it seemed that the lock is trying to send some message to the animate world from the supernatural, and it was the last bastion that’s protecting the barrier that was the news room door, between the dead and the undead. 

The adrenaline in my blood must have made my perceptions of time extremely prolonged, as all that feeling and moments of mesmerised gaze on the lock didn’t last more than five seconds, when I got my senses back by Tatha’s scream
— Honu, come away from that door! It’s haunted. RUN NOW!!!

That shout broke me free of the spell that phenomenon I just witnessed cast over me. Before Tatha could finish his sentence, I was running off, throwing the table tennis bats on the board. We had to turn all the light off, despite fearing the darkness will swallow us, and had to lock the common room door — fumbling with the keys with shaking hands.  Outside, we were met with dimly lit foyer, strewn with the boarders’ bicycles. We ran to our room, throwing a few cycles along the way, along the dark corridor, still fearing something through the darkness would just grab my ankles. Entering our room, we bolted the door in all possible combinations and pressed our ears against the door, if they could pick up any faint movement in the corridor. Our encounter with the other side left us completely sapped of energy, courage or reason. My heart pounding incessantly, I kept running through the events that unfolded right in front of my eyes over and over, yet found no explanation to the moment of paralysing fear I just experienced. May be it was some lost soul trying to find its way back to the living world, may be there was something terrible happened in the News room ages ago? May be it was those spirits of murdered people in the tea garden or the paddy fields, who glide over the eerie tea gardens on moonlit nights. We will never know who or what it was, but that incident on that spring night has permanently been etched in my mind, although I rather wish it never happened to me. At that very moment Tatha and I both stood dumbfounded, without any answer. All we knew is, that the next day when we tell our story, we will become a laughing stock, no one will believe our bloodcurdling experience. Yet, we will always remember those few seconds that put our existence in question — our encounter with the other side. The incident of “phantom lock” would become one of the most memorable yet frightening moments of my life, as well as the biggest mysteries, because I will never fathom out, who or what it was that lifted the lock in the air and held it up for all the duration we were there. Reminiscing of the dimly lit common room, the tic-tocs of the table tennis, the inexplicable mosaics formed by the light and shadow from the lamp and amid that background, a moving lock — it always made me wonder, what was there behind that dark News room door that night? I wish I knew. I only wish. Or rather not…

PS: In fact it was discovered what it was the next morning. As predicted, our story was met with ridicule and disdain. At lunchtime, finally a troupe of classmates went to the door, to prove that it was only a figment of our imagination and boorish superstition. And yet again, in broad daylight, the lock began to move…slowly rising up before everyone could see the keyhole right in front of their eyes. The hysteria that followed was deafening. Most of the disbeliever band was dispersed, running as fast as they can. But some brave ones stepped back and then went back to the door again. It was just then the mystery unveiled, as they noticed the door was moving. It was that spring Dooars breeze gushing inside the News room through the slatted windows and pushing the door. The hasp of the latch was moving, pressing the lock to move with it. The mystery was solved, backs patted, the salvo of derision against us was quadrupled that we didn’t figure out this simple causality. Yet I will remember that night as it happened, when the lights and shadows played games with our mind, and the lack of daylight smudged the defined line between the worlds of reality and fantasy. May be there was something else behind that door that night, but we will never know. There probably was if you believe there was, or nothing if you don’t believe…

PPS: On that night, after coming back in our room, we realised that we needed to go to the toilet, yet could not walk along the empty and dark corridor again, nor open the grilled window to do it. So we used Rahul Singh’s bucket we borrowed the previous day for shower. If Rahul ever reads this, this is an unreserved apology for peeing in your bucket without permission, under unavoidable circumstances. 
Standard
china, international business, Travel

Visit to China: A review from 2009

This is an exact copy of the report I had written as a synopsis of the personal reflections during the International Business Experience tour to China during my MBA in 2009. Just sharing this report here as it raised some poignant questions on our view to society…

Scenario-1

Day-1 in China, at the Urban Planning Exhibition centre, Shanghai

The Chinese guide explaining in her inept and deeply-accented English the history of Shanghai and the upcoming Expo 2010 to her entourage from Cranfield. Not many understood everything, but a number of us stated smiling derisively, some aloud. People marvelled at the miniature architecture, but not the guide for the showing us around – the mechanical way of speaking without much personal touch was considered, to the least, cold.

Scenario-2

Same Day, at McDonald’s restaurant

We had difficulty in placing an order for vegetarian menu, as would happen anywhere in the world. The conversation between my colleague and the lady managing the till was like this:
Colleague: “Do you speak English?”…Lady: “No English”… Co: “Does anyone understand English here?”…No reply… Co: “ENGLISH! ENGLISH!”… After much toil when we are seated, my colleague commented “Oh hell, no one speaks English here, we are far better off in India”. I’m still struggling to find the link between being an Anglophone and being better off in life.
Scenario-3
Day-3, Yuyuan garden commercial centre, the silk factory

Our tour guide for the day, Marie, showed me around the area, and I purchased some raw-silk items. On our way back, she excused herself to register some information about visitors at the counter. Afterwards, I asked her blatantly about the amount of commission she gets. She informed that it’s something they have to do for the municipality. In that unfamiliar situation, I tried to make assumptions drawing from my Indian context.

Scenario-4

Day-7, Beijing Chaoyang theatre acrobatic centre

The entry pass to the acrobatic show mentioned that the guests must enter before the time of the show; else they’ll have to wait until the intermission. Yet, some entered the hall even after 30 minutes from the start. Most of the people in the hall were foreigners. The ticket said “no photo or video during the show”. The trapeze artists were performing a frightening game of balancing on a 30 feet high wheel, without any safety rope. Yet, the majority of the visitors clicked their cameras indiscriminately – most of them with a flash. The temptation of capturing some memento on a foreign land contained the risk of life-threatening injury. But why bother! “The security didn’t prevent us!”

I tried to provide a few snapshots of some of the situations I encountered on the China trip, but as a whole, it reminded me of the lectures we had during OBPPD and People Management, especially about doing business with completely different national cultures. Although IBE meant to enhance business experience, and with visits to the numerous companies from different industry sector and size, the learning was exceptional, to me, the best learning was the cultural exposure, to watch and be a part of the transactions among people with geographical, cultural and linguistic diversities.

The key learning was when realised that it is easy to fall into the trap of comparing and judging other cultures from one’s own cultural mindset. It is easy and dangerous, because once a false image about a person is created; it almost always gets more distorted following different form of ‘ladder of influence’. It might seem difficult to interact with people from a completely unknown cultural values and contexts, but I realised from this trip that it only takes the willingness to learn and accept the contrasts, to bridge the gap. Kudos to the MBA curriculum to have stressed on the people aspect so much – it is ABSOLUTELY important to do business internationally. 

To this point, I’d try to turn to the theme of this report. The IBE experience – visits to the companies, made us captivated within the glossy façade of cityscapes, which is expectable in most of South-East Asian places. I wanted to see, as Jeanne-Marie Gescher mentioned – ‘the invisibles’ of China. In Shanghai, the contrast in living standards was visible, unlike in Beijing. I wanted to interact with people to have a better insight into people’s lives; our two tour guides – Marie and Matthew provided helped me a lot on this. However, in the concluding section, I’ll talk about two other experiences, that will lead to another crucial learning from this tour.

Scenario-5

Day-6, Wangfujing shopping district

I arrived at the wrong time, as most of the shops were getting closed. A young woman approached me and asked if I speak English. Then she asked that she wanted to talk, and we talked about the place I’m from, what did I see etc. After about 5 minutes she asked whether I’d accompany her for a massage. On my denial she asked me to go for a coffee; I agreed on condition that I chose the café. We talked for about 15 minutes, and she told me that how the local police, despite prostitution being illegal in China, keep silent and extort illegal sex workers by threatening prosecution. I also, learned that tens of thousands of women, from neighbouring provinces (she was from Hebei) come to Beijing willingly or by force.

Scenario-6

Same day, same area, China foreign language book shop

I wanted to buy a book on ‘learning Chinese’. The bookseller showed me an unabridged language learning pack, with speech modulation tools etc. I kept on mentioning that I’m looking for a basic book, but she wanted me to try and learn some words in Chinese, how the accented words are pronounced etc. Only after 15 minutes of demonstration did she mention that it’s a great language pack and it will only cost Rmb 499.

The key point that emerge from these two scenarios, confirmed by Rob Hughes of Linde, that business in China is all about relationships. Establishing a workable relationship or communication is a prerequisite, before even making a business proposition.

To conclude, the China IBE added new dimensions to my lines of thought – to understand, interact and do business with people from diverse cultural setting, which will enrich me and my values in the long-run.

Standard
Dream, Life experience

A short story of a revelation

I had a bad dream last Sunday. I always try to find out the reason behind all dreams, but it was one of the rare occasions when I didn’t find any. Here is what I saw:

I was standing on a foot over-bridge, which is unusually high. Standing beside me, was my daughter-about 12 years old. We stood there, static, with an ever-changing flux of people behind us and cars beneath. And we stood there like forever, as if the time had stopped, and nothing changed except the colourful haze of figures and patterns at the background. It was a sunny day, and there were no shadows, shades of light and darkness, everything appeared bare under the stark sunlight. Suddenly she appeared-it was a long take, and it seemed that she’s been walking towards the bridge for years. Holding her hand was her daughter, she seemed younger than mine, but her figure seemed smaller. I looked at the the woman; though all I cud see clearly was her blue blouse and her long black skirt, her body seemed so known to me…and she walked towards us. Suddenly the colour of the sky took a reddish tint, and the halo covered the sky up to the farthest horizon. Everything came back to its normal pace-we saw people walking by, saw her crossing the road, crossing the tram tracks. We watched her more eagerly, for every step she took, she was a step closer to us. Just before she came just under the bridge, it appeared, that though the lateral distance was fathomed, our paths didn’t meet because we were separated vertically. and then they were gone. We went back to the old eternia- stark daylight, hazy flux of people and cars.

When I woke up, the pain was almost physical. It was reminiscent of a broken family, a hope to get bring it together, and then the pang of an end to the hope. From the feelings it seemed that it was quite a long time since our family broke up. Perhaps it was the effect of a film I watched that evening that had a similar slow motion crossing, but why children? I don’t know. But finally, I drew a conclusion, which has nothing to do with relationships but lines and planes. Apparently lines take any direction, but it’s the planes that hold them. Whether two lines meet at a point, that depends on whether the planes meet. But so are human lives. We can only move along straight lines, but the planes that contain us, are our destiny…
Standard
Life experience, Nature

Natur…natur

A friend told me once, that nature sustains me. I couldn’t agree more to her statement. I think growing up alone, without siblings, without friends made me drawn towards nature. It was like being mesmerised, sometimes suffocated by the beauties of nature. Nature evoked a sense of awe within me.

Perhaps the tie began when my father started taking me to the bank of the river, and we watched the sunset, an occasional passage of a train over the bridge on the river – miles ahead. And he used to tell me that the train is going pass through the reserve forest of Bethuadahari, and I visualised deers, snakes, wild boars.

Then, when we moved to Calcutta, everything appeared so artificial. So, every Saturday we used to board bus no. 39 and go to Babughat, by the river Ganges. The Calcutta port was alive then, and I watched with wonders, huge ships those were going to cross seven seas. In the evening, when darkness fell, the ships used to blow the siren, and the flowing river twinkled with the lights from those ships.

As it is appearing, nature is the second nature to me, I’m not going to discuss in detail anymore. I rather want to put the focus from a new angle. Unlike most Bengalis, I didn’t get to travel different parts of India. Yet, I was able to cherish the beauties around me. Though they weren’t diverse, but they were distinct. I still get lost when it rains on a gloomy evening, I still feel like gasping when everything turns golden after an afternoon shower and the whole city seems like a huge mirror reflecting the sunlight in all directions.

So, when I were to deliver a lecture in a training session about the most memorable day in my life, I could only think of a day related to nature. I’ll share that experience later, but till then…Hail my tryst with nature!!
Standard